Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

যে ৬ ধরনের দোকান থেকে ভুলেও মোবাইল কিনবেন না

নতুন মোবাইল ফোন কেনার কথা ভাবছেন? এবং এই নিয়ে সংশয় আছেন, কোথা থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন? এই প্রশ্নটিই করার কারণ হল, যে কোন মোবাইল দোকান থেকে কেনার পাশাপাশি আপনি অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে মোবাইল কিনতে পারেন।

বর্তমানে অনলাইনে মোবাইল বাজার অনেক বেশি রমরমা এবং মানুষ ঘরে বসে তার মোবাইল ফোন অর্ডার করতে পারেন কোন ঝামেলা ছাড়াই। তাছাড়া কম দামে ভালো স্যামসাং মোবাইল অনলাইন থেকে খুব সহজেই কিনতে পারেন।

অনেক মোবাইলের দোকান আছে যারা বর্তমানে অফলাইনে মোবাইল বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনে মোবাইল বিক্রিতে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আবার ডিজিটাল মার্কেটিং এ বিভিন্ন ধরনের প্রমোশনের মাধ্যমে তাদের টার্গেট কাস্টোমারের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

এক্ষেত্রে কোন মডেলের বা ব্রান্ডের মোবাইল কিনছেন তা জানার পাশাপাশি কোথা থেকে কিনবেন তা জানা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাথে আপনাকে অনেক ঝামেলা বা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। সেজন্যই আপনাকে প্রথম থেকে অনেক বেশি সচেতন হতে।

যে ধরনের দোকান থেকে ভুলেও  মোবাইল কিনবেন না

যারা সম্প্রতি নতুন মোবাইল ফোন কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই বিশেষ আর্টিকেল যেখানে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব যে কোন ধরনের দোকান থেকে ভুলেও আপনার মোবাইল কিনবেন না।

আনঅথোরাইজড স্টোর

বাংলাদেশের যতগুলো মোবাইল ফোন কোম্পানি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের অথরাইজড ডিলার এবং স্টোর আছে। যেখানে তারা মোবাইল ফোন বেচার পাশাপাশি বিক্রয় পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করে থাকে।

সবচেয়ে ভালো হয় সেই সব দোকান থেকে ফোন কেনা। কারণ পরবর্তীতে আপনি যে কোন সমস্যায়  পড়লে তারা আপনাকে সাপোর্ট দিতে পারবে।

bikroy.com এর মত ক্লাসিফাইড অনলাইন প্লাটফর্ম এ ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের পাশাপাশি অথরাইজড মোবাইল ডিলার পাবেন যারা অফিসিয়াল হ্যান্ডসেট বিক্রি করে। আপনি চাইলে সেইসব অথরাইজড ডিলার বা স্টোর থেকে মোবাইল ফোন কিনতে পারেন। ‌‌

বিক্রেতার আচার এবং ব্যবহার

আপনি নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন এই বিষয়টি নিয়ে যে দোকানদারের আচার ব্যবহারের সাথে আপনার মোবাইল কেনার কি সম্পর্ক? 

হ্যাঁ অবশ্যই সম্পর্ক আছে কারণ এর সাথে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। 

যেসব দোকানে গিয়ে আপনি দেখবেন দোকানদারের ব্যবহার খারাপ আপনার সাথে ভালো ব্যবহার করছে না সেসব দোকান থেকে ভুলেও মোবাইল ফোন কিনবেন না।

ধরুন আপনি একটা মোবাইলের দোকানে গিয়েছেন যেখানে ক্রেতাদের ভিড় মোটামুটি আছে। অনেক সেলসম্যান পাবেন যেখানে তারা আপনাকে খুব একটা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না বা তাদের এটিটিউড এমন যে মোবাইল নিলে নেন না নিলে না নেন। এরকম দুই চারটা কাস্টমার চলে গেলে তাদের কোনো কিছু আসে যায় না।

এতে আপনার কি সমস্যা হতে পারে?

আপনি যখন মোবাইল ফোন কিনবেন তখন আপনি এক বছরের ওয়ারেন্টি পাবেন। কিছু কিছু মোবাইল কোম্পানি সাত দিনের রিপ্লেসমেন্ট এর সুযোগ দেয়া থাকে। ছবির সাথে আপনার মোবাইলে যদি কোনো ধরনের সমস্যা হয় বা রিপ্লেস করার প্রয়োজন আছে তখনই দোকানদার যে আপনার সাথে ভালো ব্যবহার করবে তার নিশ্চয়তা দিতে পারেন?

আরেকটা সমস্যা আছে আপনি কেন সময় ভালভাবে চ্যাট করতে পারবেন না তারা এমন ভাব করবে যে আগে টাকা দেন তারপর সবকিছু বুঝে নেন।

সাধারণত বড় বড় মোবাইল ব্র্যান্ড দোকানে এই ঘটনা ঘটে না, তবে কিছু কিছু দোকান আছে যাদের কাছ থেকে আপনি এ ধরনের ব্যবহার পেতে পারেন। তাই ভুলেও এসব দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনবেন না।

অফিশিয়াল এবং আনঅফিশিয়াল মোবাইল মিক্সিং

অফিশিয়াল এবং আনঅফিশিয়াল মোবাইল মিক্সিং করে অনেক দোকানদার মোবাইল বিক্রি করে থাকে। শুনে অবাক হলেও আসলে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। তার একটা ধারণা দিতে চেষ্টা করি।

ধরুন একটা মোবাইলের যেকোনো মডেল যেমন শাওমি পোকো সিরিজের কোন মোবাইলের দাম 25 হাজার টাকা। এখন এক দোকানদার অফিসিয়াল দোকান থেকে 25 হাজার টাকায় কিনে তার 23 হাজার টাকায় বিক্রি। আর বাকি কিছু যা হচ্ছে আনঅফিসিয়াল মোবাইল ফোন নিয়ে আসে ভারত বা আশেপাশের কোন দেশ থেকে যা তার খরচ পড়তে পারে 17 হাজার টাকা।

এভাবে সে ৫০ টা অফিশিয়াল আর ৫০ টা আনঅফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রি করতে থাকবে। যখন কোনো ক্রেতা মোবাইল ফোন কিনতে যাবে তখন তার দোকানে যাবে তারা সেই ক্রেতাকে একটু বাজিয়ে বা পরোক্ষ করে দেখার চেষ্টা করে ক্রেতা কি আসলেই অবুঝ মোবাইল বিষয়ে কম ধারনা রাখে কিনা? তারা এটাও বোঝার চেষ্টা করবে কাকে আনঅফিসিয়াল ফোন দিলে সমস্যা হবার সম্ভাবনা কম। 

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা মোবাইল সম্পর্কে সত্য একটা ধারণা নেই। দোকানদার যদি বুঝতে পারে তখন তারা তাকে আনঅফিসিয়াল মোবাইলটি ধরিয়ে দিতে চেষ্টা করে।

তার মানে সে 23 হাজার টাকায় 17 হাজার টাকার মোবাইল বিক্রি করছে আবার 25 হাজার টাকা দাম কমিয়ে বিক্রি করছে 23 হাজার টাকায়।

এখন পঞ্চাশটা মোবাইল যদি 2 হাজার টাকা কমিয়ে বিক্রি করে তাহলে তার ক্ষতির পরিমাণ 1 লক্ষ টাকা।

আবার আনঅফিসিয়াল আনঅফিসিয়াল ফোন বিক্রিতে ছয় হাজার টাকা লাভে পঞ্চাশটা মোবাইল বিক্রি করলে তার মোট তিন লাখ টাকা। ‌‌

সব হিসাব করে দেখা যায় তার সর্বসাকুল্য লাভের পরিমাণ 2 লাখ টাকা। 

এই ধরনের সমস্যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যেখানে হাতেগোনা কিছু মোবাইল ব্যবসায়ীরা অসৎ এবং অনৈতিক উপায় মোবাইল বিক্রি করে আসছে। তাই যেকোনো মোবাইল দোকান থেকে ফোন কেনার আগেই সেটি খুব ভালোভাবে যাচাই করে নিন।

এখন আসা যাক এতে আপনারা কোন কোন সমস্যায় পড়তে পারেন?

যেই ৫০ জনের কাছে এই আনঅফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রি করা হয় তাদের মধ্যে অনেকেই মোবাইল ফোন সম্পর্কে খুব একটা ভাল ধারণা রাখে না এবং বিক্রেতা বিক্রির পূর্ব একটু পরোক্ষ বা যাচাই করে নেয়।

এই ৫০ জনের মধ্যে ধরেন পাঁচ থেকে দশজনের মোবাইলের কোন রকম সমস্যা দেখা দিল। তখন তারা দোকানদারকে কমপ্লেইন করে কিন্তু এক্ষেত্রে দোকানদার ট্রিক এপ্লাই করে।

তখন তারা বিভিন্ন লজিক দেওয়া শুরু করে, যেমন তারা বলতে থাকে ভাই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যান বা অফিশিয়াল পেজ চেক করেন, সেখানে অন্যদের রিভিউ দেখেন। তারা এটাও ক্লেম করতে থাকে লাগলে আপনাকে ফোন নাম্বার দিচ্ছি আপনি কথা বলে নেন তাদের মতামত যাচাই করেন। ‌‌

এখন মাঝখানে যে, 10 জনের মোবাইলে সমস্যা ছিল দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। কি করবে সঠিক বুঝে উঠতে পারেনা ‌‌তারা অনেক সময় বুঝাতে থাকে এটা কোন ব্যাপার না বিটিআরসি একটু সময় নিয়ে থাকে এই ফোনগুলো লিস্টিং করতে। আবার অনেক দোকানদার খুব বাজে আচরণ করতে থাকে। এ ধরনের মোবাইল দোকানদার থেকে অবশ্যই আপনাকে দূরে থাকতে হবে।

বি টি আর সি মেসেজ নিয়ে খেলা করা

কিছু দোকানদার আছে যারা আপনাকে নিশ্চিত করতে চাইব, মোবাইলটি 100% অফিশিয়াল এবং বিটিআরসিতে নিবন্ধিত। এই নিয়ে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। 

কিন্তু আপনি যখন বিটিআরসিতে মেসেজের মাধ্যমে মোবাইলটি বৈধ কিনা তা যাচাই করতে যাবেন তখন কনফার্মেশন মেসেজ টি আসতে একটু দেরি করে।

তবে ৯০% এর ক্ষেত্রে যদি মোবাইলটি আনঅফিসিয়াল হয়ে থাকে তাহলে ম্যাসেজটি আসতে অনেক দেরি করে। যদিও 10 শতাংশের খুব তাড়াতাড়ি মেসেজ চলে আসে তবে তা খুব সচরাচর দেখা যায় না।

তখন দোকানদাররা নানা ধরনের যুক্তি উপস্থাপন করতে চাইবে তেমন তারা সার্ভারের সমস্যা বলতে পারে তা একদম ব্রেন্ড নিউ মোবাইল বলে নিবন্ধিত হতে সময় লাগবে এই ধরনের নানা যুক্তি দেখিয়ে তারা মোবাইলটি আপনার কাছে বিক্রি করতে চাইবে কিন্তু এক্ষেত্রে আপনাকে অনেক সচেতন হতে হবে।

তাদের এসব কথায় কান দিবেন না এবং যদি আপনি নিশ্চিত হতে না পারেন তাহলে সেই মোবাইল কেনা থেকে বিরত থাকুন।

মোবাইল বক্সের সিল খোলা

কিছু মোবাইল পেতে পারেন যে সব মোবাইলের বক্সের সিল খোলা থাকে। ভুলেও সে সব মোবাইল কখনো কিনবেন না। 90 শতাংশ ক্ষেত্রে চান্স থাকে হয়তোবা এগুলো সেকেন্ডহ্যান্ড অথবা রিফারবিশড মোবাইল ফোন।

সুতরাং দোকানদার যা বলুক না কেন যদি ডিসকাউন্ট দিতে চায় ভুলেও সে সব মোবাইল কিনবেন না। যেসব মোবাইলের প্যাকেট খোলা থাকে, 95 শতাংশ ক্ষেত্রে মোবাইল গুলো কোন না কোন ত্রুটি যুক্ত। এসব মোবাইল না কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

মার্কেট শট মোবাইল

আপনি যে মোবাইলটা কিনতে চাচ্ছেন অনেক সময় দেখা যায় তার মার্কেট শর্ট বা মার্কেট আউট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত আনঅফিসিয়াল মোবাইল গুলোর ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। এ ধরনের মোবাইল কেনার দরকার নাই।

যদি এই ধরনের কোন মার্কেট শর্ট মোবাইল কিনতে চান সে ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে যেমন অনেক সময় দেখা যায় একজন দোকানদার সেই মোবাইল 10 পিস নিয়ে আসলো তার আটটা বেচা হয়ে গেলো। অনেক সময় ১-২ টা ফোন পাওয়া যায় যা ডিফল্টেড মোবাইল কিন্তু বাজারে চাহিদা থাকার কারণে তারা সেই ডিফল্টেড মোবাইল টেকনিক্যালি আপনার কাছে বেচে দিল। এর জন্য পরবর্তীতে আপনি সমস্যায় পড়তে পারেন।

শেষ কথা

আমার অভিজ্ঞতা এবং আপনাদের সচেতনতার উদ্দেশ্যে এই আর্টিকেলটি লেখা আশা করি এ লেখা ভবিষ্যতে নতুন মোবাইল কেনার সময় কাজে দেবে এবং সাহায্য করবে।

আশাকরি এখন বুঝতে পারছেন কোন 6 টি দোকান থেকে আপনার মোবাইল কেনা উচিত নয়।
Sharif ahmed
Sharif ahmed ব্লগিং করা আমার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলায় টেকনোলজি নিয়ে ব্লগিং শুরু করেছি।

2 comments for "যে ৬ ধরনের দোকান থেকে ভুলেও মোবাইল কিনবেন না"

  1. আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে । এত সুন্দর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার জন্য । আর ভাইয়া আমি ঐদিন যে বলছিলাম ব্লগিং নিয়ে কন্টেন্ট লেখার জন্য । সেটা লেইখেন প্লিজ!!!!

    ReplyDelete
    Replies
    1. জ্বি অবশ্যই চেষ্টা করব।

      Delete

দয়াকরে কমেন্ট স্প্যামিং থেকে বিরত থাকুন !