ইউটিউব থেকে আয় করার ৫টি উপায়

দ্রব্যমূল্যের যে অবস্থা তাতে এখন আর শুধু ২০, ৩০, ৪০ হাজার টাকার একটা চাকরিতে সংসার চালানো যায় না। তাই অনেকেই দ্বিতীয় আরেকটি টাকা উপার্জনের রাস্তা খুঁজছেন। তাছাড়া অনেকে ছাত্রাবস্তায়ও স্বাবলম্বী হতে চাচ্ছেন। নিজের খরচটা বহন করে পরিবারকেও কিছু সাপোর্ট দিতে চাচ্ছেন। এইরকম আরও অনেকের জন্যই ইউটিউব হতে পারে সেই অন্য আয়ের মাধ্যম। 
ইউটিউব থেকে আয় করার ৫টি উপায়
(ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার উপায়)

ইউটিউব থেকে টাকা আয় করা যায় এইটা হয়তো আপনি জানেনও। কিন্তু কিভাবে এবং কতভাবে যদি সেটা না জানা থাকে তাহলে আপনার জন্যই এই লেখাটা। প্রথমেই আমরা দেখে নিই কি কি ভাবে আমরা ইউটিউব থেকে আয় করতে পারি। তারপর এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

ইউটিউব থেকে আয় করার ৫টি উপায়

  1. প্রডাক্ট বিক্রি
  2. ডিজিটাল প্রডাক্ট বিক্রি
  3. এফিলিয়েট
  4. স্পন্সরশীপ
  5. এডসেন্স

প্রডাক্ট বিক্রি:

অসংখ্য প্রডাক্ট আছে বিক্রি করার মত। যেমন - টিশার্ট, মগ, ব্যাগ, জুতা সহ যেকোন কিছু। এখানে থাকা ১.৯ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে আপনি নিজের একটি ব্র্যান্ডও গড়ে তুলতে পারবেন। ভালো পরিকল্পনা এবং ডিমান্ডেবল প্রডাক্ট নিয়ে শুরু করলে অবশ্যই ভালো করতে পারবেন।


বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক তরুন তরুণী ইউটিউবের মাধ্যমে জামা, কাপড় সহ নানা ইলেক্ট্রনিক্স মেশিন বিক্রি করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনার এজন্য কোন ফিজিক্যাল শপ ভাড়া না নিলেও চলে। দেশের যেকোনো জায়গায় বসে নিজের পণ্য সহজেই বিক্রি করা যায় এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ।  বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের সাথে যোগাযোগ করলে তারা আপনার হয়ে পণ্য সরবরাহ করে দিতে পারে। 

ডিজিটাল প্রডাক্ট বিক্রিঃ 

ফিজিক্যাল এইসব প্রোডাক্ট ছাড়াও আপনি চাইলে ডিজিটাল প্রডাক্টও বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমান এই যুগে ডিজিটাল প্রডাক্টের চাহিদা আছে খুব। যেমন কোর্স তৈরি সেটা বিক্রি করতে পারেন, কোর্স সেলিং বর্তমানে খুব জনপ্রিয় ডিজিটাল প্রডাক্ট।

এছাড়া ই-বুক, ছবি, ওয়েবসাইট, ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ইলিমেন্টস, রিসার্চ, সফটওয়্যার, এপস, রেসিপি, পডকাস্টসহ আরও অনেক কিছু। আপনার কাছে যেটা ভালো লাগে সেই প্রডাক্ট নিয়েই ইউটিউবিং শুরু করে দিতে পারেন। 

এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ

নিজের প্রডাক্ট বিক্রি করে যেমন ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারেন, তেমনি অন্যের প্রডাক্ট বিক্রি করেও আয় করতে পারেন। ডিজিটাল বা ফিজিক্যাল উভয় ধরনের প্রডাক্টই সেল করতে পারেন। আপনার যদি নিজস্ব প্রডাক্ট না থাকে বা সেই সামর্থ্য না থাকে তাহলে এফিলিয়েটিংই হতে পারে আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক মাধ্যম। 

স্পন্সরশীপঃ

“যেখানে কনজিউমার, সেখানেই আডভারটাইজিং।” কয়েক বিলিয়ন লোক এখন প্রতিদিন ইউটিউবে ঢুঁ মারে। আর যেখানে এতো মানুষ সেখানে কি আর ব্র্যান্ড গুলো না এসে পারে! আপনার নিজের কোন প্রডাক্ট নেই, অন্যের প্রডাক্টও বিক্রি করতে পারছেন না, তাহলে আপনি শুরু করে দিতে পারেন অন্যের প্রডাক্টের গুণকীর্তন করা। কিতাবের ভাষায় যাকে বলা হয় প্রডাক্ট রিভিউ। বর্তমানে এটাও খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বড়-ছোট কোম্পানি বা ব্র্যান্ড গুলোর সাথে স্পন্সরশীপের মাধ্যমে ভিডিও বানিয়ে আয় করতে পারেন। 


অন্য চ্যানেলকে প্রোমোট করার মাধ্যমেঃ আপনার চ্যানেল যখন ফেমাস হয়ে যাবে তখন বিভিন্ন নতুন ইউটিউবাররা আপনার কাছে ওদের চ্যানেলের রিকোমেন্ডেশন করার আবদার করতে পারে। আপনি চাইলে তখন এর বিনিময়ে একটা ফি দাবি করতে পারেন। 

সার্ভিস বিক্রিঃ 

ধরুন আপনি মোবাইল মেরামত করতে পারেন , অথবা এসি ফ্রিজ ঠিক করতে পারেন অথবা হাতের লেখা শেখান। এই বিষয়ে আপনি যে একজন দক্ষ লোক তা মানুষকে জানানো দরকার। আপনি সহজেই আপনার দক্ষতা দিয়ে যেকোনো সার্ভিস বিক্রি করতে পারবেন। 

এডসেন্সঃ

উপরের সবকিছু যদি খুব জটিল লাগে, মাথার চুল না ছুঁয়ে যদি চলে যায়, তবে আপনার জন্য আছে সবচেয়ে কমন - ইউটিউব এডসেন্স বা মানিটাইজিং ব্যবস্থা। উপরের সবগুলা অপশনেই উপরিপাওনা হিসেবে এটা করতে পারেন অথবা চাইলে শুধু এটার মাধ্যমেই আয় করতে পারেন। আপনার ভিডিওতে ইউটিউব এড দেখাবে আর সেখান থেকে প্রাপ্ত রেভিনিউর পারসেন্টিজ আপনার সাথে শেয়ার করবে। 


এগুলো ছাড়াও আরো কিছু অপশন রয়েছে ইউটিউব থেকে আয় করার। কিন্তু সে সব মেথড বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে খুব একটা কাজ করে না। যেমন - ক্রাউডফান্ডিং, ইউটিউব প্রিমিয়াম সাবস্ক্রাইবার, সুপার চ্যাট, চ্যানেল মেম্বার ইত্যাদি। তো যাই হোক, আপনার নিজের বিজনেসের জন্য যদি ইউটিউবে চ্যানেল সেট আপের ব্যাপারে কোন হেল্প প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের সাহায্য নিতে পারেন। 

একজন সফল ইউটিউবারের তার চ্যানেল নিয়ে ছোট গল্প

আমিও একজন ইউটিউবার।  ২০১৮ সাল থেকে সিরিয়াসলি ইউটিউব নিয়ে কাজ করছি। প্রায় ১০০ টির মত ভিডিও তৈরি করেছি।  এডসেন্স থেকে কিছু টাকা আয় করেছি। যদিও আমি এডসেন্স থেকে আয় করাকে তেমন সমর্থন করি না। 

যাই হোক,  আমার চ্যানেলটির নিস হচ্ছে ল্যাংগুয়েজ।  আমি এই বিষয় নিয়ে নানা ধরনের ভিডিও তৈরি করে একটা অডিয়েন্স বিল্ডাপ করেছি। এই অডিয়েন্সের কাছে আমি আমার  পেইড কোর্স বিক্রি করে বেশ কিছু টাকা আয় করেছি। এজন্য প্রথম দিকে  আমাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল।  টানা কন্টেন্ট তৈরি করে সেগুলোকে যথাযথ ভাবে মার্কেটিং করা,  ভিডিওর শেষে পেইড কোর্সের ব্যাপারে কল টু একশন দেওয়া।  এই প্রজেক্টের সফলতার ফলে আমি ইউটিউব চ্যানেল গ্রোথ অপরচুনিটির ব্যাপারে আরও আত্নবিশ্বাসী হয়েছি। সঠিক পরিকল্পনা ও ধৈর্য্য নিয়ে  কাজ করলে আপনিও সফল হতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। হ্যাপি ইউটিউবিং। 

Please Share this On:

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url