Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

সেরা ১০ টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে

আজকের আর্টিকেলে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে নিয়া আলোচনা করব। টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট আছে কি? বা কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়? সেইসকল উপায়গুলি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে চেষ্টা করব।

টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়

কিছু খাওয়ার ইচ্ছা জাগলে সেটা খাওয়ার জন্যও টাকার প্রয়োজন পড়বে। শখের বসে কিছু কিনতে ইচ্ছা হলে তার জন্যও টাকার প্রয়োজন পড়বে। অর্থাৎ জীবনে চলার পথে সকল ক্ষেত্রেই টাকার প্রয়োজন পড়ে।

এখন এই সব ইচ্ছা এবং চাহিদা পুরন করার জন্য টাকা কোথা থেকে আসবে? অবশ্যই টাকা ইনকাম বা রুজি করতে হবে। সকল মানুষই চায় সহজভাবে অল্প কাজ করে অনেক টাকা ইনকাম করতে। সহজভাবে কাজ করে অনেক টাকা ইনকাম করা সম্ভব তবে এর জন্য অবশ্যই আপনার কোন না কোন দক্ষতা থাকতে হবে। 

আপনি মনে মনে ভাবলেন অনেক টাকা ইনকাম করবেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করলেন না তাহলে কিভাবে টাকা ইনকাম হবে? টাকা ইনকাম করার অনেক উপায় রয়েছে। এর মধ্যে থেকে আপনাকে যেকোন পথ বেজে নিয়ে কাজ করা শুরু করতে হবে।

টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে

বাংলাদেশে টাকা ইনকাম করা আসলে সহজ নয়। তারপরেও আজকে আপনাদের সাথে যেই উপায় বা পদ্ধতি শেয়ার করব । এই উপায় বা পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি বাংলাদেশে বসেই অল্প কষ্ট করে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

বাংলাদেশে অনেক ছেলে মেয়ে শিক্ষিত হয়েও বেকার বসে থাকে। কিন্তু নিজে সাবলম্বি হওয়ার জন্য কিছুই করে না। চাকরি ছাড়াও টাকা ইনকাম করার অনেক রাস্তা রয়েছে এটা অনেকে জানেই না। চাকরি করা ছাড়াই আজকের বলা পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করে আপনি অবশ্যই সাবলম্বী হতে পারবেন আশাকরি।

কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়? টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট আছে কি? এমন সব প্রশ্ন সবার মাথায় ঘুরে। আশাকরি এই আর্টিকেলে যেই ১০ টি টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে নিয়ে আলোচনা করব এগুলো পড়ার পড় আপনার কিভাবে সহজভাবে টাকা ইনকাম করা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর ভালো ভাবে পেয়ে যাবেন।

১. ছোটখাটো রিচার্জ দোকান দেওয়া

টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে
আপনি যেই গ্রামে বা শহরে বসবাস করেন ঐখানে ছোটখাট বাজার থাকলে সেইখানে ছোট রিচার্জের দোকান দিতে পারেন।

অনেকে ভাববেন রিচার্জ এর দোকান দিয়া কত টাকা ইনকাম সম্ভব? এটার উত্তর পরে দিচ্ছি তবে এটা মনে রাখুন রিচার্জ এর দোকান দিয়া অনেক টাকা ইনকাম করতে না পারলেও আপনি সাবলম্বী হওয়ার মতো একটা ইনকাম করতে পারবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক যুবক রিচার্জের দোকান দিয়া টাকা ইনকাম করে সাবলম্ভি হচ্ছে। তাই যদি টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে খুজে থাকেন। তাহলে আপনাকে বলছি রিচার্জের দোকান দেওয়া টাকা ইনকাম করার অন্যতম একটা সহজ উপায়।

আমি রিচার্জ এর দোকান দিয়ে টাকা ইনকাম করার কথা বলেছি। এখন আপনার মনে কিভাবে রিচার্জ এর দোকান দিয়ে টাকা ইনকাম করা যায়? এই প্রশ্ন জাগতেই পারে। 

রিচার্জের দোকান দেওয়া মানে আমি শুধু সিমে টাকা ভরে দেওয়াকেই বুঝাইনি আপনি এর পাশাপাশি বিকাশ, নগদ, উপায় বা রকেট লেনদেন ও চালু রাখবেন। 

রিচার্জের কাজ করার জন্য প্রথমে সিম কোম্পানি থেকে একটা রিটাইলার সিম নিতে হবে। এরকম ভাবে আপনি প্রত্যেক সিম কোম্পানির কাছ থেকে একটি করে রিটাইলার সিম নিয়ে নিবেন। রিটেইলার সিম নেওয়ার জন্য আপনার এলাকার প্রতিটি সিম কোম্পানির নিজস্ব প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করবেন।

তাছাড়া অনলাইনে অনেক ট্রাষ্টেড টেলিকম কোম্পানি রয়েছে যারা রিটাইলার সুবিধা দিয়ে থাকে। এদের থেকেও রিটাইলার একাউন্ট কিনে রিচার্জ ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

প্রতিটি সিম কোম্পানি টাকা রিচার্জ করার ক্ষেত্রে ১ হাজারে ৩০ টাকা দিয়া থাকে। যদি আপনি প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা রিচার্জ করতে পারেন তাহলে আপনার ইনকাম হচ্ছে ডেইলি ১০*৩০=৩০০ টাকা। এটা শুধু আপনি রিচার্জ করার মাধ্যমে কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন এই হিসাব।

এছাড়াও বিভিন্ন সিম কোম্পানি অনেক সময় তাদের নিজস্ব অফারের উপর মুল্য ছাড় দিয়ে থাকে ঐঅ অফার গুলো বিক্রি করেও মোটামুটি ইনকাম করে নিতে পারেন।

এবার আসি কিভাবে বিকাশ, নগদ, উপায় বা রকেট লেনদেন করার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারেন‌। বিকাশ, নগদ, উপায় বা রকেট লেনদেন করে টাকা ইনকাম করার জন্য প্রতিটি কোম্পানি থেকে একটি করে এজেন্ট একাউন্ট খুলে নিবেন।

বিকাশ, নগদ, উপায় বা রকেট কোম্পানির নিজস্ব প্রতিনিধির কাছ থেকে খুব সহজেই এজেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন।

বিকাশ, নগদ, উপায় বা রকেট কোম্পানি ১ হাজারে ৫ টাকা করে দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে যদি আপনি প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারেন তাহলে আপনি প্রতিদিন ২০*৫=১০০ টাকা ইনকাম করতে পারছেন। এটা শুধু ব্যালেন্স লেনদেন করার মাধ্যমে কত টাকা ইনকাম করতে পারছেন এই হিসাব। এটা ছাড়াও আরও টাকা ইনকাম করা যায় এই ব্যালেন্স লেনদেন করে।

তবে এখানে একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য যে রিচার্জের দোকান দিয়ে টাকা ইনকাম করার ক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে হবে।

আশকরি পসিশন অনুযায়ি সঠিক জায়গায় রিচার্জ দোকান স্থাপন করে আপনি মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তাই বলা যায় টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় গুলোর মধ্যে রিচার্জ দোকান দেওয়া অন্যত্যম একটি।

২. টিউশনি করা

টাকা ইনকাম করার সহজ উপায়
বর্তমানে বাংলাদেশে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় গুলোর মাঝে টিউশনি করিয়ে টাকা ইনকাম করা অনত্যম একটি। যদি আপনি ছাত্র হয়ে থাকেন তাহলে বাংলাদেশে টিউশনি করিয়ে টাকা ইনকাম করা আপনার জন্য খুবই সহজ হবে।

টিউশনি করিয়ে কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন এটা আপনি কোথায় বসে টিউশনি করাবেন তার উপর নির্ভর করে। যদি আপনি শহরে বসে টিউশনি করান তাহলে ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন। সেই তুলনায় গ্রামে বসে টিউশনি করালে একটু কম পাবেন। 

আপনি প্রথমে খোঁজ নিয়ে আপনার আসে পাশের যারা পড়াশুনায় অধ্যায়নরত আছে তাদের বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে টিউশনি যোগার করতে পারেন। 

যখন আপনি দুই চারজনকে টিউশনি করানো শুরু করবেন তখন এমনিতেই আপনার আশে পাশের অভিভাবকরা আপনার সাথে যোগাযোগ করবে তাদের বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য।

তাছাড়া পড়াতে চান এমন লিফলেট রাস্তার পাশে ঝুলিয়েও প্রাইভেট বা টিউশনি করানোর জন্য ছাত্র-ছাত্রী পেয়ে যাবেন। প্রথমে একটু কষ্ট করে ছাত্র-ছাত্রী খুঁজে নিতে হবে। কিন্তু যখন আপনি ভালো ভাবে পড়ানো শুরু করবেন তখন ছাত্র-ছাত্রীর অভাব পড়বে না।

টিউশনি করে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে আপনার পড়ানোর দক্ষতাটা অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ। কারন আপনি যদি ভালোভাবে বুঝিয়ে না পড়াতে পারেন তাহলে আপনার কাছে তেমন ছাত্র-ছাত্রী জমা হবে না। 

তাই টিউশনি করানোর সময় খুবই মনোযোগ সহকারে ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোর চেষ্টা করবেন তাহলেই আপনি টিউশনি করিয়ে সহজেই ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

ছাত্র-ছাত্রী কোন শ্রেনিতে পড়ে এবং গ্রাম বা শহর কোথায় পড়াচ্ছেন এটার উপরে কত টাকা টিউশনি করিয়ে ইনকাম করতে পারবেন নির্ভর করে। সাধারণত শহরে টিউশনিতে প্রতি সাবজেক্টে পাঁচশ-দুই হাজার টাকা বা এরবেশিও দিয়ে থাকে। আর যদি গ্রামে বসে টিউশনি করে থাকেন সেক্ষেত্রে প্রতি সাবজেক্টের বিনিময়ে তিনশ-পাঁচশ টাকা বা আরও বেশিও দিয়ে থাকে।

তাই আপনি যেখানে বসেই টিউশনি করান না কেন পাঁচ থেকে দশ জন ছাত্র-ছাত্রী জোগাড় করে টিউশনি করা শুরু করতে পারলে ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

৩. ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র ঠিক করার দোকান দেওয়া

ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র ঠিক করার দোকান দেওয়া
বাংলাদেশে খুবই সহজ কাজ করে বেশি টাকা ইনকাম করা কাজ গুলোর মধ্যে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ঠিক করে ইনকাম করা অন্যতম। যদি আপনি টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে খুজে থাকেন তাহলে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ঠিক করার দোকান দেওয়া আপনার জন্য ভালো হবে।

ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র ঠিক করার দোকান দেওয়ার ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক যন্ত্র ঠিক কিভাবে করতে হয় বা কোন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র নষ্ট হলে সেটার কি সমস্যা হয়েছে সেটা খুঁজে বের করার জন্য আপনাকে এই বিষয়ে ট্রানিং নিতে হবে। 

আপনি প্রথমে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ঠিক করা শিখার জন্য বড় কোন ইলেকট্রনিক যন্ত্র‌পাতি ঠিক করা দোকানে তাদের সাথে থেকে ২-৩ মাসের ট্রানিং নিতে পারেন। যখন আপনি পুরাপুরি অভিঙ্গ বা দক্ষ হয়ে যাবেন তখন আপনার এলাকায় অথবা কোন ছোট বাজারে ছোটখাট ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ঠিক করানোর দোকান দিতে পারেন।

মোবাইল, লাইট, ফ্যান ও টেলিভিশন ইত্যাদি ইলেকট্রনিক যন্ত্র প্রতিনিয়ত নষ্ট হয়ে থাকে তাই এগুলো ঠিক করার কাষ্টমারের অভাব পড়বে না। ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতিতে খুব অল্প কাজ করেই অনেক টাকা ইনকাম করা সম্ভব হয়। 

ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র ঠিক করার দোকান দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে অল্প কিছু টাকা প্রথমে ইনভেষ্ট করে কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্র ঠিক করার জন্য যন্ত্র কিনে নিতে হবে। যদি আপনি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ঠিক করার ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে মাস শেষে ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করে নিতে পারবেন।

ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র ঠিক করার দোকান দেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি ঠিক পসিশনে দোকান দিতে পারলে প্রথম থেকেই কাষ্টমার পাওয়া শুরু করবেন।

আরেকটি বিষয় আপনি করতে পারেন ইলেকট্রনিক যন্ত্র ঠিক করার দোকানের পাশাপাশি আপনার দোকানে নতুন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র যেমন চার্জার, লাইট , ফ্যান ও মোবাইল ব্যাটারি ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন। 

তাহলে আপনার এক দোকানেই দুটি দোকান হয়ে যাচ্ছে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র ঠিক করা ও তার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র বিক্রি। যদি আপনি সঠিকভাবে পরিচালনা করে দোকান দিতে পারেন থাহলে অল্পতেই সফল হতে পারবেন।

৪. ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করা

ডেলিভারি বয় চাকরি
বর্তমানে বাংলাদেশে ছাত্রদের জন্য এবং মধ্যবয়সি সকল লোকের জন্য টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় হচ্ছে ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করা। 

ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করার জন্য আপনার একটি সাইকেল বা মটর বাইক প্রয়োজন হবে ও মোবাইলের দরকার পড়বে। যদি আপনার মোবাইল না থেকে থাকে তাহলে কম দামে ভালো মোবাইল কিনে নিতে পারেন।  আপনি ভাবতে পারেন কোথায় ডেলিভারি বয় হিসেবে যোগদান করবেন‌‌। বাংলাদেশে জনপ্রিয় অনেক গুলো ই-কমার্স এবং কুরিয়ার কোম্পানি রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত তাদের কোম্পানির জন্য ডেলিভারি বয় নিয়োগ দিয়ে থাকে। 

এরকম কয়েকটা কোম্পানির নাম হচ্ছে রেডেক্স, দারাজ , ফুডপান্ডা ইত্যাদি। আপনি খুব সহজেই বাংলাদেশের যেকোন জনপ্রিয় একটি কোম্পানির ডেলিভারি বয় হিসেবে যুক্ত হতে পারেন‌।

আপনি এই ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করে টাকা ইনকাম করার পাশাপাশি অনেক মানুষের ব্যবহার বা আচার-আচরণ সম্পর্কে অবহিত হবেন। এটা পরিবর্তিতে আপনার ক্যারিয়ারে সফলতা বয়ে আনবে।

প্রথম প্রথম ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করতে আপনার একটু কষ্ট হবে বা লজ্জা করবে। কিন্তু একটা কথা মনে রাখা উচিত এই পৃথিবীতে কোন কাজই ছোট নয়। যখন নিয়মিত ভেলিভারি প্রদান করবেন এবং আপনি আপনার কাজকে ভালবাসতে শুরু করবেন তখন আপনার অনেক ভালো লাগবে। 

ডেলিভারি বয় কাজ করে আপনি প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যদি আপনি বেশি কষ্ট করেন তাহলে বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন সেটা অনেকটা কোম্পানি এবং আপনি কতটা সময় দিতে পারছেন তার উপর নির্ভর করে। 

আর এই ডেলিভারি বয় কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি এই কাজটা পার্টটাইম জব হিসেবে করতে পারবেন। যদি আপনি ছাত্র হয়ে থাকেন তাহলে পড়ালেখার পাশাপাশি কোন একটি কোম্পানিতে পার্ট টাইম ভেলিভারি বয় কাজ করে ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

যদি আপনি বর্তমানে বেকার হয়ে থাকেন বা কোন কাজ করার কথা ভাবছেন তাহলে আজকেই এই ডেলিভারি বয় হিসেবে যুক্ত হতে পারেন। কারন টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করা।

বাংলাদেশে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার উপায়

৫. ফেসবুকে ব্যবসা করা

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার উপায়
ফেসবুক খুবই জনপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। মোটামুটি সকলেরই একটি করে ফেসবুক একাউন্ট রয়েছে। হয়ত অযথা ফেসবুকে ঘুরাঘুরির সময় অনেকেই ভাবেন ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম করার অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে ব্যবসা করা‌‌। টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে গুলোর মধ্যে ফেসবুক ব্যবসা অন্যতম। এখন অনেকে ভাবতে পারেন ফেসবুকে আবার কিভাবে ব্যবসা করে? হ্যা ফেসবুকেও ব্যবসা করা যায়। এটাকে বলতে পারেন অনলাইন ব্যবসা‌।

করোনা ভাইরাসের প্রোকোপের সময় দেশ যখন লকডাউন ছিল। তখন মানুষ তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে কিনার জন্য বাইরে যেতে পারত না। তখনই অনেক উদ্দোক্তরা ফেসবুকে পেজ খুলে ব্যবসা করা শুরু করেছিল।

যদিও করোনা ভাইরাসে আসার আগে থেকেই বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা চালু ছিল কিন্তু করোনা ভাইরাস আসার পর এটা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষ এখন তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে অনলাইন থেকেই কিনে ফেলে। হয়ত আপনিও অনলাইন থেকে কখনো কিছু কিনে থাকতে পারেন।

ফেসবুক থেকে আয় করার জন্য আপনি একটা ফেসবুক পেজ খুলে ফেসবুক ব্যবসা শুরু করতে পারেন‌। এর জন্য প্রথমত আপনাকে যেই কাজটা করতে হবে সেটা হচ্ছে এমন একটি বিষয় নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে যেটা খুবই আনকমন এবং লোকজন খোঁজ করে কিন্তু সহজলভ্য নয়‌।

এমন একটি বিষয়ের উদাহরন যদি দেই তাহলে সেটা হচ্ছে কটকটি অথবা তিলের খাঁজা ব্যবসা করা। ছোটবেলা হয়ত অনেকেই এগুলো খেয়েছেন। কিন্তু এখন খাওয়ার ইচ্ছে হলেও এটি খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন একটি খাবার যদি অনলাইনে মানুষ খোঁজে পায় তাহলে অবশ্যই ছোটবেলার কথা মনে করে হলেও কাছে অর্ডার দিবে।

আমিতো শুধু একটি বিষয় উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করলাম। কিন্তু অনলাইনে বা ফেসবুকে ব্যবসা করার জন্য এরকম হাজারো আনকমন বিষয় রয়েছে। একটু ঘাটলেই এমন একটা আনকমন বিষয় আপনি খুজে পেয়ে যাবেন।

আপনি কি নিয়ে ফেসবুকে ব্যবসা করবেন এটা সিলেক্ট করার পর আপনার দ্বিতিয় কাজ হচ্ছে ফেসবুকে আনকমন নামে একটা পেজ খুলে ফেলা। বলতে পারেন এটাই আপনার অনলাইন ব্যবসার দোকানের নাম।

এরপরে আপনার প্রোডাক্টের সুন্দর করে ছবি তোলে পোষ্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারেন মানুষের সামনে অর্ডার করার জন্য।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য যে আপনি ফেসবুকে পেজ খোলার সাথে সাথেই অর্ডার পাবেন না এর জন্য আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। কারন ফেসবুক পেজ খুলে ফেলার পরই লোকজন আপনার প্রোডাক্টি কেনার জন্য আপনার পেজটিকে বিশ্বাস করবে না। ধৈর্য ধরে কয়েকটি অর্ডার সফল ভাবে পৌঁছানোর পর আপনার পেজে পসিটিভ রিভিউ পাওয়ার মাধ্যমে আপনি মানুষের মাঝে বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারবেন।

তাছাড়া আপনার প্রোডাক্ট বিক্রির পোষ্ট খুব তাড়াতাড়ি অনেক মানুষের মাঝে পৌঁছানোর জন্য টাকা ব্যয় করে বুষ্ট করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে এটা করার জন্য আপনাকে কিছু টাকা ফেসবুককে দেওয়া লাগবে। যদি ফেসবুক ব্যবসা করে খুব তাড়াতাড়ি সফলতা অর্জন করতে চান তাহলে এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কিভাবে মানুষের অর্ডার করা প্রোডাক্ট তাদের কাছে পৌছাতে পারব? এটার উত্তর খুবই সহজ। কারন বাংলাদেশে অনেক গুলো কুরিয়ার সার্ভিস রয়েছে যেগুলো ১-৩ দিনের মধ্যে যেকোন প্রোডাক্ট বাংলাদেশের যেকোন ডেলেভারি দিয়ে থাকে।

এরকম উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কোম্পানির নাম হচ্ছেঃ সুন্দরবন, রেডেক্স ও পাঠাও। আপনি আপনার বা কাষ্টমারের জন্য সহজলভ্য যেকোন কুরিয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই পোডাক্ট ডেলিভারি করতে পারবেন।

টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় খোঁজে থাকলে এখনই শুরু করতে পারেন ফেসবুক পেজ খুলে যেকোন প্রোডাক্ট বিক্রির ব্যবসা।

৬. আর্টিকেল লেখা

আর্টিকেল লেখে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার উপায়
টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে আর্টিকেল লেখা। আর্টিকেল লেখার দক্ষতা যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে এর বিনিময়ে আপনি অনলাইন থেকে থেকে ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করে নিতে পারবেন।

অনেকেই আর্টিকেল লিখতে জানেন কিন্তু কিভাবে আর্টিকেল লিখে টাকা ইনকাম করে আয় করা যায় এটা জানেন না। ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যারা আর্টিকেল লিখিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে টাকা প্রদান করে থাকে।

অর্ডিনারি আইটি, পরাতিবর্তন ও গ্রাথর অন্যতম ওয়েবসাইট আর্টিকেল লিখিয়ে টাকা দেয়ার ক্ষেত্রে‌। তাছাড়া বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে তাদের কন্টাক্ট পেজ থেকে যোগাযোগ করে তাদের কাছে আপনার আর্টিকেল বিক্রি করতে পারেন।


এছাড়া অনেক এজেন্সি রয়েছে যারা আর্টিকেল রাইটিং সার্ভিস দিয়ে থাকে‌। তাদের সাথে যুক্ত হয়ে আপনি আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারেন। 

এক্ষেত্রে অনেক এজেন্সি বা কোম্পানি আছে যারা আপনাকে মাসিক বেতনের মাধ্যমেও রাখতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার সবচেয়ে ডড় সূবিধা হবে আপনাকে আর্টিকেল বিক্রি করার জন্য কাষ্টমার খুজতে হবে না।

একেক ওয়েবসাইট বা একেক এজেন্সি আপনার আর্টিকেল ওয়ার্ড অনুযায়ি ভিন্ন রকম টাকা প্রদান করে থাকবে‌ তবে গড়ে একটি এক হাজার ওয়ার্ড আর্টিকেলের জন্য আপনা ২০০-২৫০ টাকা পেয়ে থাকবেন। আর ইংরেজি এক হাজার ওয়ার্ড আর্টিকেলের জন্য ৩০০-৫০০ টাকা পেয়ে থাকবেন।

যদি আপনি হাই কোয়ালিটি এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখতে পারেন তাহলে ওয়েবসাইট খুলে নিজস্ব ব্লগ ওয়েবসাইট খোলে ব্লগিং করতে পারেন। যদি আপনি ফ্রিতে ব্লগিং ওয়েবসাইট খুলতে চান তাহলে সহজেই Blogger.com থেকে খুলতে পারবেন।

আপনার ওয়েবসাইটে হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল প্রকাশ করার পর গুগল এডসেন্স আবেদন করে এডসেন্স এপ্রোপ করে ফেলতে পারেন। গুগল এডসেন্স পাওয়ার পর আপনার ওয়েবসাইটের ভিসিটরের উপর নির্ভর করে ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

যদি আপনি নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করতে পারেন তাহলে আপনি গুগল এডসেন্স এপ্রোপ করিয়ে ওয়েবসাইট বিক্রি করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়েবসাইট মিনিমাম পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

যেহেতু ১০-২০ টি হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল প্রকাশ করার প্রয়োজন হয় ওয়েবসাইটে এডসেন্স পাওয়ার জন্য। তাই যদি আপনার নিয়মিত লেখালেখির অভ্যাস থাকে তাহলে মাসে কমপক্ষে দুইটি এডসেন্স এপ্রোপ ওয়েবসাইট বিক্রি করতে পারবেন। অনলাইন অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে বা ফেসবুকে অনেক জনপ্রিয় খুব রয়েছে এই এডসেন্স এপ্রোপ ওয়েবসাইট বিক্রি করার জন্য।

৭. ফ্রিল্যান্সিং করা

ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম
নিজ স্বাধিন মতো ঘরে বসে অন্য কোম্পানি বা লোকের কাজ করে টাকা ইনকাম করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে। স্বাভাবিক ভাবে ফ্রিল্যান্সিং অনেক সহজ মনে হলেও ফ্রিল্যান্সিং অতটা সহজ কাজ নয়। তবুও ঘরে বসে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করা যায় বলে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে মধ্যে এটিও অন্যতম।

ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার ক্ষেত্রে একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের প্রয়োজন পড়বে। মোবাইল দিয়েও ফ্রিল্যান্সিং করা যায় তবে ফ্রিল্যান্সিং এর সকল সেক্টরের কাজ মোবাইল দিয়া করা সম্ভব হয় না। মোবাইল দিয়ে করা গেলেও খুবই সময় ব্যয় হয় এবং কষ্টকর হয়ে যায়। তাই ফ্রিল্যান্সিং করে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে একটা ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কিনে নিতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার জন্য আপনাকে প্রথমে ধৈর্য ধরতে হবে। এমন একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে যেই বিষয় নিয়ে মানুষ অনলাইনে কাজ করে নিতে চায় কিন্তু তেমন দক্ষ কাউকে পায় না।

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে জনপ্রিয় কয়েকটি কাজ হচ্ছে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি। 

ফ্রিল্যান্সিং করে সহজে টাকা ইনকাম করার জন্য প্রথমে আপনাকে যেকোন একটি বিষয় নিয়ে কোন ফ্রিল্যান্সিং শেখানো প্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এই দক্ষতা অর্জন করার জন্য আপনার মিনিমাম ৩-৬ মাস লাগবে তবে এই সময়টা অনেকটা আপনার আগ্রহের উপর নির্ভর করে।

যখন আপনি একটি বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ রুপে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। তখন আপনি ফাইবার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ইত্যাদি ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম বা ওয়েবসাইটে একাউন্ট তৈরি করে নিবেন। 

একাউন্ট করার সাথে সাথেই আপনি কাজ করার অর্ডার পাবেন না। এর জন্য আপনাকে কিছুটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। যদি ভাগ্য ভালো থাকে তাহলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই অর্ডার পেতে পারেন।

যদি আপনি ১-২ টা অর্ডার ভালো ভাবে কমপ্লিট করতে পারেন তাহলে আপনি কাষ্টমারের কাছ থেকে ভালো পসিটিভ রিভিউ পেয়ে থাকবেন। তারপর অন্য আপনার ঐ পসিটিভ রিভিউ দেখে অর্ডার দিতে থাকবে। 

ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম বা ওয়েবসাইটে বেশি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে যেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে আপনার কাজ করার দক্ষতা। আপনার দক্ষতা যত বেশি থাকবে আপনি তত বেশি কাজ পাবেন ও মানুষের পসিটিভ রিভিউ পাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে বসে টাকা ইনকাম করার জন্য আপনার প্রচুর ধৈর্য থাকতে হবে। অনেকেই আছে ফ্রিল্যান্সিং শিখে কাজ না পেয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে কাজ ছেড়ে দেয়। আপনিও যদি এরকম করেন তাহলে হবে না। 

যেই কাজটাই করুন না কেন মন থেকে শখ করে করতে হবে। তাহলেই ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জন করতে পারবেন। যারা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জন করেছে তারা বর্তমানে মাসে মিনিমাম ৩০০-৫০০ ডলার ইনকাম করছে। 

যখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন তখন আপনার ধৈর্য ধরে রাখতে হবে। আসতে আসতে যখন আপনি কয়েকটি কাজ সফল ভাবে সম্পুর্ন করতে পারবেন এরপর থেকে আপনাকে আর পিছনে তাকাতে হবে না।

৮. অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
অন্যের প্লোডাক্ট বিক্রির করে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতি হচ্ছে অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং। এটার মাধ্যমে ভালো পরিমান টাকা ইনকাম সম্ভব। 

অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং অনেক ভাবেই করা যায়। যদি ফেসবুকে আপনার খুবই জনপ্রিয় একটি পেজ থেকে থাকে তাহলে আপনি ঐ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন।

তাছাড়া যদি আপনার জনপ্রিয় একটি ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে থাকে অথবা একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল থেকে থাকে তাহলে আপনি এগুলোর মাধ্যমেও অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।

Amazon এর মতো জনপ্রিয় কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রি করেও আপনি অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। তাছাড়া Flipcart এর মতো জনপ্রিয় কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রি করেও অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। 

এখন হয়ত আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে আপনি কিভাবে অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করবেন? হ্যা আপনিও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন। তবে তার জন্য অবশ্যই আপনার একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল অথবা ব্লগ ওয়েবসাইট থাকতে হবে। 

জনপ্রিয় বলার কারন হচ্ছে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে অথবা ব্লগ ওয়েবসাইটে ভিসিটর না থাকলে আপনি অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করে ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন না।

যদি আপনার ভালো ভিসিটর সহ একটি ইউটিউব চ্যানেল অথবা ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে থাকে তাহলে আপনি অ্যামাজন অথবা অন্য যেকোনো ওয়েবসাইটের অ্যাফিলিয়েট লিংক আপনার কনটেন্টে ব্যবহার করে প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারবেন। 

তবে এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে আপনাকে ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। কারন অ্যামাজন বা অন্য জনপ্রিয় অ্যাফেলিয়েট ওয়েবসাইট গুলো থেকে প্রোডাক্ট কিনে থাকে ইউরোপে লোকজন। তাই অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে থেকে অনেকেই বর্তমানে অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। যদি আপনি অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং করে সহজে টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং এর উপর অনেক কোর্স রয়েছে সেগুলো করতে পারেন।

যদি আপনি ভালোভাবে অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং শিখে ফেলতে পারেন তাহলে মাস শেষে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তাই টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে গুলোর মধ্যে অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং অন্যতম।

৯. ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে

ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে ইনকাম করার উপায়
টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় গুলোর মধ্যে ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করে ইনকাম করা অন্যতম একটি। ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে ইনকাম করতে চাইলে আপনাকে প্রথমে একটি ইউটিউব খুলতে হবে। 

তারপর আপনি যেই বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারনা রাখেন এবং নিয়মিত যেই বিষয়টি নিয়ে বিডিও আপলোড করতে পারবেন এমন বিষয় নিয়ে ভিডিও আপলোড করা শুরু করুন। চেষ্টা করবেন এমন একটি বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাতে যেই বিষয়টি নিয়ে ইউটিউবে ভালো কোন ভিডিও নেই। 

যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলে এক হাজার সাবাস্ক্রাইব এবং চার হাজার ঘন্টা ওয়াচ টাইম হবে তখন আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলটিকে গুগল এডসেন্স দ্বারা মনিটাইজ করতে পারবেন।

আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি গুগল এডসেন্স দ্বারা মনিটাইজ হওয়ার পর আপনার ইনকাম শুরু হবে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে কত টাকা ইনকাম করা যায়? 

বাংলাদেশে অনেক ইউটিউবার আছেন যারা প্রতি মাসে তাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে গুগল এডসেন্সের লক্ষ টাকা ইনকাম করে থাকেন ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে। ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে কত ভিসিটর খসে তার উপরে। 

আপনার চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করতে করতে যখন অনেক সাবস্ক্রাইব ও ভিউ আসা শুরু হবে তখন গুগল এডসেন্স ছাড়াও স্পন্সর ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সহজে অনেক টাকা ইনকাম করা সম্ভব তবে এর জন্য প্রথমে আপনাকে অনেক কষ্ট ও ধৈর্য ধরার প্রয়োজন পড়বে। কারন ইউটিউব চ্যানেল খোলার সাথে সাথেই আপনার ইনকাম শুরু হবে না। একটু ধৈর্য ও কষ্টের মাধ্যমে যখন আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি গ্রো করতে পারবেন তখন আপনার সেই কষ্টের ফল পাবেন।

১০. ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করা

ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি
বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের অনলাইনে পন্য কিনার প্রবোনতা বেড়েছে। মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পন্য অনলাইনে বিক্রি করাই হচ্ছে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের কাজ। 

যদি আপনার ব্যবসা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারনা তাহলে আপনি অনলাইনে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুলে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। প্রথম প্রথম ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুলে তেমন সফল হতে না পারলেও আসতে আসতে যখন আপনার ওয়েবসাইট জনপ্রিয় হবে তখন আপনি আরোও বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

ই-কমার্স ওয়েবসাইট জনপ্রিয় করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে পন্যের মুল্যের উপর ছাড় দেওয়া। যদি আপনি বাজারে পাওয়া যায় এমন একটি পন্যের দাম আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটে কম রাখবেন তখন মানুষ আপনার কাছে প্রোডাক্ট অর্ডার করা শুরু করবে।

ই-কমার্স ওয়েবসাইট জনপ্রিয় কজন্যজন্য গুগল এবং ফেসবুকে এড ব্যবহার করতে পারেন। গুগল এডস এবং ফেসবুক এডস এর মাধ্যমে খুব সহজেই মানুষ তার ই-কমার্স ওয়েবসাইট জষপ্রিয় করতে পারে। 

তবে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে আপনার প্রচুর ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে। যদি আপনার বেশি পরিমান টাকা ইনভেস্ট করার মন মানসিকতা থাকে তাহলে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।ঞ

বাংলাদেশে কিছু জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট হচ্ছে Daraz, BDShop, chaldal ইত্যাদি। যদি আপনি ই-কমার্স ওয়েবসাইট শুরু করতে চান সেক্ষেত্রে এইসব ওয়েবসাইট ফলো করতে পারেন। 

ই-কমার্স ওয়েবসাইট দিয়ে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে না পারলেও যখন আপনার ওয়েবসাইটটি জনপ্রিয়তা লাভ করবে তখন মোটামুটি ভালো পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তাই টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে গুলোর মাঝে ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করে ইনকাম করা অনত্যম একটি।

শেষ কথা 

আশকরি যেই দশটি টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে নিয়ে আলোচনা করেছি এগুলো আপনাদের কছে ভালো লেগেছে। 

যদি আপনি বাংলাদেশে বসে সহজ কাজ করে টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে আপনার সুবিধা মতো উপরে আলোচনা করা যেকোন একটি কাজ শুরু করতে পারেন।

আমি এখানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার। যদি আর্টিকেলটি ভালো লাগে তাহলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন এবং কোন ধরনের মন্তব্য থাকলে কমেন্টে জানান। আল্লাহ হাফেজ
Sharif ahmed
Sharif ahmed ব্লগিং করা আমার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলায় টেকনোলজি নিয়ে ব্লগিং শুরু করেছি।

2 comments for "সেরা ১০ টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে"

  1. অনেক ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. আপনাকেও ধন্যবাদ।

      Delete

দয়াকরে কমেন্ট স্প্যামিং থেকে বিরত থাকুন !